জামিনে মুক্তির পর নিখোঁজ প্রেমিক, প্রেম ভাঙার গল্প জানালেন ফারিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রকাশ :
অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া।

হত্যা মামলায় গ্রেফতার ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি ওই ঘটনার নানা অজানা দিক তুলে ধরেন। গত বছরের ১৮ মে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন নুসরাত ফারিয়া।


 পরে ভাটারা থানায় জুলাই মাসে হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের দুই দিন পর, অর্থাৎ ২০ মে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে জামিন প্রদান করেন। সেদিন বিকেল ৩টার দিকে তিনি কারামুক্ত হন। পডকাস্টে ফারিয়া জানান, মামলার বিষয়টি প্রথমে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি কানাডায় অবস্থান করছিলেন। 


অভিনেত্রীর ভাষ্য, তিনি শুনেছিলেন তাঁর নামে একটি মামলা হয়েছে, তবে দেশে না থাকায় বিষয়টি সিরিয়াস মনে হয়নি। থাইল্যান্ডে যাওয়ার দিন বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসে খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ আটক হওয়ার ঘটনা তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, আটকের পর তাঁকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। 


পরদিন সকালে প্রথমবারের মতো তাঁকে আদালতের এজলাসে দাঁড়াতে হয়—যা এত দিন শুধু সিনেমার পর্দায় দেখেছেন বলে জানান তিনি। কারাবাসের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে তিনি অপ্রত্যাশিত মানবিকতা ও সহানুভূতি পেয়েছেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার সময় অপরিচিত মানুষজন তাঁকে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিয়েছেন, যা তিনি আজীবন মনে রাখবেন।


 এই ঘটনা তাঁর জীবনদৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে বলেও জানান ফারিয়া। তাঁর ভাষ্য, এ সময় অনেক মানুষ ও কাছের সম্পর্ক হারিয়েছেন তিনি। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে। এর প্রভাব পড়েছে তাঁর পেশাগত জীবনেও; অনেকে তাঁকে নিয়ে কাজ করতে এখনো সাহস পান না বলে জানান অভিনেত্রী।