মুমূর্ষু শিশুকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ :
ছবি:সংগৃহিত

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় আফিয়া খাতুন (৭) নামে এক অসুস্থ শিশুকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।


শিশু আফিয়া খাতুন মাগুরা সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলীর মেয়ে। জানা গেছে, সকালে সে তার মামার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে যায়। সেখানে ঘরের এক কোণায় রাখা কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক খেলার ছলে পান করে ফেলে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।


দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা এরপর সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর চালক রোগীর স্বজনদের অসুস্থ শিশুসহ নেমে যেতে বলেন।


স্বজনদের দাবি, চালক জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জরুরি প্রশাসনিক কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন এবং রোগীকে অন্য যানবাহনে করে যেতে বলা হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে তারা ইজিবাইকে করে শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারা।


এ বিষয়ে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়, তাই বিকল্পভাবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকায় কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।


শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত হয়েছে। বিষয়টি জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে অ্যাম্বুলেন্স যেন সাধারণ রোগীদের সেবায় সর্বদা ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, অসুস্থ শিশুকে কোনোভাবেই অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।