১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ ফেরত, বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রকাশ :
ছবি: সংগৃহীত


লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মো. আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস এর নিকটবর্তী সাতগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


 পরে বেলা ১১টায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ। বৈঠকে বিজিবি সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক ‘প্রোটেস্ট নোট’ প্রদান করে।


 পাশাপাশি সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর থেকেও ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।অন্যদিকে বিএসএফের দাবি, নিহত ব্যক্তি চিহ্নিত চোরাচালানকারী ছিলেন। তারা জানান, অভিযুক্তরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়। তবে এ ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হওয়ায় বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করেন। ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দিবাগত রাতে সীমান্ত পিলার ৮৬৮/৩ এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশ মরদেহটি বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 


পরে নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে সাত-আট জন বাংলাদেশি নাগরিক কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে সীমান্তে প্রবেশ করলে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। 


এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মো. আলী হোসেন। এ ঘটনায় সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।