মাঠের বাইরেই বড় ম্যাচ—সালাউদ্দিন বনাম আসিফ নজরুল
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবারের আসরে অংশ নেয়নি টাইগাররা। তবে এই সিদ্ধান্ত সরকারের, নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও খেলোয়াড়দের—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমে বলেছিলেন, বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানান, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। এই বক্তব্য পরিবর্তন ঘিরেই শুরু হয় সমালোচনা।
এ প্রসঙ্গে এবার সরব হয়েছেন বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুক্রবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উনি খাঁড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কিভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাবো। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।”
সালাউদ্দিন আরও দাবি করেন, দলের ভেতরে মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমিতো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি—ওটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, “কোনো রিগ্রেটের প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত—সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়েরা। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করেছে দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য। মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য ভূমিকা রেখেছে।” তবে সমালোচনার মুখে পরে তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন।
এদিকে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন