দায়িত্ব নিয়েই চমক—একসাথে ৯ কর্মসূচি ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ :
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

 জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শপথ নেওয়ার পরই ক্রীড়াঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে নয়টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনও চূড়ান্ত করা হয়েছে।


 খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ 

ফুটবল-ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।


 শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া 

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা সংযুক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান। 


নতুন ক্রীড়া স্পোর্টস’ কর্মসূচি

 ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো জোরদারে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে ক্রীড়া পরিদপ্তর-এর অধীনে।


 ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ

 অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।


 মাঠ ও সুবিধা সম্প্রসারণ

 সকল মহানগরসহ গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠ স্থাপন ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প থাকবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এর আওতায়। 


অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া ব্যবস্থা 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিতদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ও ক্রীড়া পরিদপ্তর।


 ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প ও পৃষ্ঠপোষকতা

 দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তরকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পৃক্ত করা হবে।


 প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ক্রীড়াকে নতুন উচ্চতায় নিতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।” তাঁর ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।