আন্দোলনের সময় মোদিকে লক্ষ্য করে অশালীন বক্তব্য, অভিযান শুরু দিল্লি পুলিশের
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠিয়েছে পুলিশ। আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত অধিকাংশ ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো বিতর্কিত কনটেন্ট প্রকাশ পেলেই তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের একদিন পরই পুলিশের এই পদক্ষেপের খবর সামনে এলো। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন শনিবার প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি। সংগঠনটি জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের আরও দুটি দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় তারা আন্দোলন স্থগিত করেছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি নতুন করে আরও কয়েকটি দাবি তোলে। এর মধ্যে ছিল এনইইটি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। রাজধানী দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের বিশ্বাস নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে।”
সিজেপির দাবি, সরকার এনইইটি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারেরও আশ্বাস দিয়েছে। সব ধরনের এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে নাকি শুধু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সিজেপির নেতা রাঙ্কা বলেন, “গুরুতর অপরাধী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। প্রথম দিন থেকেই সিজেপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিল এবং গত ৩৭ দিনে সেটিই আমরা দেখিয়েছি। সমঝোতা অনুযায়ী আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হবে না।” তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সিজেপি।
চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সাবেক আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত সিজেপি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। ২০ জুলাই সরকার ও সিজেপির মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যার অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো মার্চ’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষে আন্দোলনকারী ও পুলিশ—উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের মারধর ও টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য করুন